Friday, August 7

নিজস্ব প্রতিনিধি : কোনওরকম বিস্তারিত নোটিস ছাড়াই, মাত্র দশ মিনিটের হুঁশিয়ারিতে বুলডোজার অ্যাকশন শুরু যাদবপুরে। এলাকায় আরপিএফ, কলকাতা পুলিশ, রেল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে চলছে ভাঙচুর, উচ্ছেদ অভিযান। এলাকায় প্রচুর বাহিনী উপস্থিত। ব্যারিকেড করে ঘিরে রাখা হয়েছিল এলাকা ।

সব রকম চেষ্টা বিফল করেই জেসিবি দিয়ে একের পর এক বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হয়েছে মাঝরাতের অন্ধকারে। গভীর রাতে ঘরছাড়া হয়ে এবার কোথায় যাবেন, এই চিন্তায় রয়েছেন এলাকার মানুষ।

যাদবপুর স্টেশন এলাকায় পরিস্থিতি সামলাতে জমায়েতে ব্যাপক লাঠিচার্জ হয়। বাম নেতৃত্বের তরফে সেখানে উপস্থিত ছিলেন সৃজন ভট্টাচার্য। সৃজন-সহ আটক একাধিক জনকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন একাধিক বাম সমর্থক। বর্ষীয়ান নেতা সুজন চক্রবর্তীর উপরেও লাঠিচার্জ হয়েছে বলে খবর।

ওই এলাকায় ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে স্থানীয়রা তো বটেই, ছিলেন হকাররা, সিপিএম- কংগ্রেস কর্মীরা। এদিকে ছাত্রছাত্রীদের হাতে আম্বেদকর, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, প্রীতিলতা, কল্পনা দত্তদের ছবি। কোনও ক্ষতি হলে, ভাঙচুর হলে তাঁদের উপর দিয়েই যা করার করতে হবে, এই হুঁশিয়ারিতে সরগরম ছিল মধ্যরাতের যাদবপুর। ক্রমাগত ধিক্কার আর ‘বুলডোজার হটাও’ স্লোগান চারদিকে। সেই জমায়েত ছত্রভঙ্গ করেই ‘কাজ’ শুরু করল বুলডোজার।
শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশন চত্বর মিলিয়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০০টি অস্থায়ী ঝুপড়ি এবং ছোট ছোট দোকান সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা হয়েছে। এবার নজরে যাদবপুর।
ঘটনার সূত্রপাত ২ জুন রাতে। যাদবপুর স্টেশনের বাইরে হঠাৎই এসে হাজির হয় হকার উচ্ছেদের জন্য প্রস্তুত থাকা পেল্লায় বুলডোজার। এই খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে স্টেশন চত্বরে তীব্র আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়। আশঙ্কা ছিল, আগের স্টেশনগুলির মতোই গভীর রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে এখানেও আকস্মিক উচ্ছেদ চালানো হতে পারে।

প্রশাসনের এই বুলডোজার অভিযানের খবর পেয়েই রাতেই রুখে দাঁড়ায় বামফ্রন্ট। যুব সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে রাতেই দলে দলে বাম কর্মী ও সমর্থকেরা স্টেশনের বাইরে জড়ো হয়ে জোরালো প্রতিবাদে শামিল হন। বামেদের স্পষ্ট অভিযোগ ছিল, গরিব মানুষের রুজি-রুটি বাঁচাতে এবং এই উচ্ছেদ অভিযান রুখতে বাম নেতা-কর্মীরা স্লোগান তুলে সাফ জানিয়ে দেন, দরকার পড়লে তাঁরা হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে আজ সারারাত স্টেশন চত্বরেই রাত জাগবেন।
২ জুন রাতে রেলের উচ্ছেদ অভিযান আটকে দিয়েছিলেন মানুষ। বিস্তর আলোচনার পর তিন সপ্তাহ সময় মিলেছিল। কোর্ট খুললে আইন মেনে এগোনো হবে, এই মর্মে রেল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের সঙ্গে মধ্যস্থতা হওয়ার পর জানা গিয়েছিল, এখনই ভাঙা হচ্ছে না কোনও দোকান। আলোচনা চলবে রেল, পুর-প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে, পুনর্বাসন না দিয়ে কোনও উচ্ছেদ চলবে না। এর আইনি লড়াই চলবে। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ফের মধ্যরাতে যাদবপুরে উচ্ছেদ পরিকল্পনা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version