নিজস্ব প্রতিনিধি:কলকাতার জলপথে পরিবহণের ভোলবদল নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, কলকাতার ভৌগোলিক অবস্থান এবং হুগলি নদীর গুরুত্বকে মাথায় রেখেই এই ওয়াটার মেট্রো প্রযুক্তি আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি সাধারণ লঞ্চ বা নৌকার চেয়ে অনেক বেশি গতিসম্পন্ন, নিরাপদ এবং সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হবে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে হাওড়া, কলকাতা এবং শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ মাত্র কয়েক মিনিটেই নদী পারাপার করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর এই গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর, প্রকল্পের রুট ম্যাপ তৈরি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দফতর। পরিবেশবান্ধব এই মেট্রো চালু হলে দূষণ কমবে এবং কলকাতার পর্যটনেও এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সড়ক ও রেলের পাশাপাশি এবার জলপথ পরিবহণেও এক যুগান্তকারী বিপ্লবের সাক্ষী হতে চলেছে তিলোত্তমা।
প্রথম দফার তালিকায় থাকা বিভিন্ন শহর
কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম দফায় দেশের বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ শহরে ওয়াটার মেট্রো চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় গুয়াহাটি, শ্রীনগর, পাটনা, বারাণসী, অযোধ্যা ও প্রয়াগরাজে প্রথম দফায় ওয়াটার মেট্রো চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের তেজপুর এবং ডিব্রুগড়ের নামও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। এই শহরগুলির পর এবার তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা। সব মিলিয়ে ভারতজুড়ে মোট ১৭টি জায়গায় ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তির কাজ বিভিন্ন স্তরে চলছে, আর ১৮তম স্থান হিসেবে এবার নাম জুড়ল কলকাতার।
দেশের ১৮তম শহর হিসেবে এবার কলকাতায় চালু হতে চলেছে অত্যাধুনিক ‘ওয়াটার মেট্রো’ । বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত একটি সাংবাদিক বৈঠকে এই মেগা প্রকল্পের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তিনি জানান, কলকাতায় বিশ্বমানের ওয়াটার মেট্রো প্রযুক্তি আনার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে ইতিবাচক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এই পরিষেবা চালু হলে মহানগরের যানজট যেমন কমবে, তেমনই গতি আসবে নিত্যদিনের যাতায়াতে।
কেরলের সাফল্যের পর দেশজুড়ে বড় পরিকল্পনা
ভারতে ওয়াটার মেট্রো পরিষেবা প্রথম চালু হয়েছিল কেরলের কোচিতে । সেখানে জলপথের এই আধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থা দারুণভাবে সফল হয়। কোচির এই অভাবনীয় সাফল্য দেখেই কেন্দ্রীয় সরকার দেশজুড়ে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। দেশের প্রধান প্রধান নদী ও জলপথকে ব্যবহার করে মোট ১৮টি শহরে এই পরিবেশবান্ধব ও দ্রুতগতির ওয়াটার মেট্রো পরিষেবা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
