Friday, August 7

সৌরভ দত্ত, কলকাতা: রাজ্যের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ফের দুর্নীতি। তৃণমূল সরকারের আমলে শিক্ষক-চিকিৎসকদের পদোন্নতি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এর জেরে বিগত ইন্টারভিউয়ের সম্পূর্ণ প্যানেল খারিজ করে দিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। স্বাস্থ্য ভবনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণে বড় সমস্যা তৈরি হল। পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা ১০২৫ জন শিক্ষক-চিকিৎসকের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, গত মার্চ মাসে একটি ইন্টারভিউ হয়েছিল। এটি ছিল প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদের পদোন্নতির জন্য। এই নিয়োগ প্যানেলে ব্যাপক দুর্নীতির গন্ধ পেয়েছেন শীর্ষ কর্তারা। মেধার পরিবর্তে অন্য কোনও প্রভাব কাজ করেছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্য দফতরের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য পুরো প্যানেলটিই বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের অনিয়ম হয়েছিল, সে বিষয়ে সরকারি স্তরে এখনও কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
মার্চ মাসের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, মোট ১০২৫টি শূন্যপদ রয়েছে। এই পদগুলিতে পদোন্নতির জন্য ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছিল। শূন্যপদের মধ্যে প্রফেসর পদে ২২৬টি, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর পদে ৪৭১টি এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে ৩২৮টি আসন রয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক পদে যোগ্য চিকিৎসকেরা ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন। তাঁরা নতুন দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। ঠিক তখনই এই প্যানেল বাতিল হল। এর ফলে চিকিৎসকমহলে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নতুনভাবে শুরু হবে। অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী ১৫ জুন থেকে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ জুন। আগের পর্বে যাঁরা আবেদন এবং ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন, তাঁদেরও আবার নতুন করে আবেদন করতে হবে। ইন্টারভিউয়ের নতুন সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে দফতর থেকে বলা হয়েছে।
দুর্নীতির দাগ মুছতে এবং স্বজনপোষণ পুরোপুরি রুখতে এবার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যের কোনও সিনিয়র চিকিৎসক আর ইন্টারভিউ নিতে পারবেন না। স্বাস্থ্য দফতরের কোনও কর্তাও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় থাকতে পারবেন না। চিকিৎসকদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য এবার সম্পূর্ণ নতুন ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এবার থেকে ইন্টারভিউ নিতে রাজ্যে আসবেন ভিন রাজ্যের খ্যাতনামা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র চিকিৎসকেরা। স্থানীয় স্তরের কোনও রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব যাতে নিয়োগে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই এই ‘বহিরাগত’ বিশেষজ্ঞদের আনা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দফতরের দায়িত্ব নিয়েই শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, স্বাস্থ্য কেন বেহাল হল, প্রথমে তার ফাঁকফোকর খুঁজতে হবে। অভয়াকাণ্ডে যারা যারা জড়িত, চিকিৎসক-সহ সবার খাতা খুলব। পেশায় চিকিৎসক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন,’আমি খুশি যে একজন চিকিৎসক স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্যের ২৫ থেকে ৩০টা মতো বিভাগ রয়েছে। একটা বিস্তৃত ক্ষেত্র।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version