সৌরভ দত্ত, কলকাতা:
১০ জুনের নতুন সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটিয়ে সমস্ত হেভিওয়েট মন্ত্রীদের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ৪মে রাজ্যে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছে নতুন ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার। সরকার গঠনের পর পর কয়েকটি দফায় সম্প্রসারিত হয়ে অবশেষে আত্মপ্রকাশ করল রাজ্যের নতুন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা। গত ৯ই মে রাজভবনের এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীসহ মাত্র ৬ জন মন্ত্রী শপথ নিয়ে প্রাথমিক স্তরে সরকারের যাত্রা শুরু করেছিলেন। এরপর ১ জুন রাজভবনের জমকালো অনুষ্ঠানে আরও ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে রাজ্যে বর্তমান মোট মন্ত্রীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১। এই ৪১ সদস্যের মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ১৩ জন পূর্ণ ক্যাবিনেট মন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী এবং ২৫ জন সাধারণ রাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী।
সরকারের প্রশাসনিক রাশ শুরু থেকেই শক্ত হাতে ধরে রাখতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত ১১ মে প্রথম দফার ৫ জন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মধ্যে দফতর বণ্টন করা হয়েছিল। শুরুর দিনগুলিতে কাজের গতি বজায় রাখা এবং নীতিগত সিদ্ধান্তগুলি দ্রুত কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কৃষির মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বিভাগগুলি মুখ্যমন্ত্রী আপাতত নিজের নিয়ন্ত্রণেই রেখেছিলেন। তবে ১০ জুনের নতুন সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটিয়ে সমস্ত হেভিওয়েট মন্ত্রীদের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
১০ই জুনের সরকারি গেজেট নোটিফিকেশন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মন্ত্রিসভার কার হাতে কোন প্রশাসনিক দায়িত্ব অর্পিত হলো, তার সম্পূর্ণ তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী
শ্রী শুভেন্দু অধিকারী
মুখ্যমন্ত্রী এবং ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী: স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর, ভূমি ও ভূমি সংস্কার এবং উদ্বাস্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন দফতর, বিদ্যুৎ দফতর, তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দফতর, কর্মী ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর এবং অন্যান্য দফতর যা অন্য কোনো মন্ত্রীকে বণ্টন করা হয়নি।
শ্রী নিশীথ প্রামাণিক
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর এবং জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দফতর।
শ্রী অশোক কীর্তনীয়া
খাদ্য ও সরবরাহ দফতর এবং সমবায় দফতর।
শ্রী দিলীপ ঘোষ
পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দফতর এবং কৃষি বিপণন দফতর।
শ্রী ক্ষুদিরাম টুডু
অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর।
শ্রীমতী অগ্নিমিত্রা পল
নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দফতর।
শ্রী দীপক বর্মন
বিদ্যালয় শিক্ষা দফতর, আবাসন দফতর এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বস্ত্র দফতর।
শ্রী তাপস রায়
শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ দফতর, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও শিল্প পুনর্গঠন দফতর এবং অপ্রচলিত ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎস দফতর।
ডঃ শঙ্কর ঘোষ
সংসদীয় বিষয়ক দফতর এবং পর্যটন দফতর।
শ্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ
বন দফতর এবং পরিবেশ দফতর।
শ্রী অর্জুন সিং
শ্রম দফতর এবং পরিবহন দফতর।
শ্রী গৌরী শঙ্কর ঘোষ
অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতর এবং গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতর।
শ্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়
উচ্চশিক্ষা দফতর এবং কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দফতর।
শ্রী স্বপন দাশগুপ্ত
রাজভবনে নতুন করে আরও ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ নিলেন। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে রাজ্যে মোট মন্ত্রীসংখ্যা দাঁড়াল ৪১।
অর্থ দফতর।
ডঃ কল্যাণ চক্রবর্তী
তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দফতর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তি (বায়োটেকনোলজি) দফতর এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন দফতর।
ডঃ শারদ্বত মুখার্জী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর।
শ্রী অরূপ কুমার দাস
সেচ ও জলপথ দফতর।
ডঃ অজয় কুমার পোদ্দার
জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর এবং পূর্ত দফতর ।
শ্রী দুধ কুমার মণ্ডল
কৃষি দফতর
রাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত)
মন্ত্রীদের নাম
দফতরসমূহ
শ্রীমতী মালতি রাভা রায়
নারী ও শিশু বিকাশ এবং সমাজকল্যাণ দফতর, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্বনিযুক্তি দফতর এবং কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ (প্রোগ্রাম মনিটরিং) দফতর।
শ্রী রাজেশ মাহাতো
প্রাণীসম্পদ বিকাশ দফতর এবং মৎস্য চাষ দফতর।
ডঃ ইন্দ্রনীল খাঁ
যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দফতর এবং ক্রেতা সুরক্ষা বিষয়ক দফতর।
রাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী
শ্রী জুয়েল মুর্মু
আদিবাসী উন্নয়ন দফতর এবং সেচ ও জলপথ দফতর।
ডঃ হরেকৃষ্ণ বেরা
উচ্চশিক্ষা দফতর এবং কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দফতর।
শ্রী আনন্দময় বর্মন
পরিবহন দফতর এবং অর্থ দফতর।
শ্রী অশোক দিন্দা
কৃষি বিপণন দফতর এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বস্ত্র দফতর।
শ্রী নাদিয়ার চাঁদ বাউরী
পূর্ত দফতর এবং অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতর।
শ্রী বিশাল লামা
স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর, সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর।
শ্রী শান্তনু প্রামাণিক
খাদ্য ও সরবরাহ দফতর এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দফতর।
শ্রীমতী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র
শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ দফতর এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তি (বায়োটেকনোলজি) দফতর।
শ্রী উমেশ রাই
সংসদীয় বিষয়ক দফতর এবং নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দফতর।
শ্রীমতী পূর্ণিমা চক্রবর্তী
তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দফতর এবং পর্যটন দফতর।
শ্রী কৌশিক চৌধুরী
বিদ্যালয় শিক্ষা দফতর এবং দমকল ও জরুরি পরিষেবা দফতর।
শ্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য
জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর এবং শ্রম দফতর।
শ্রী দিবাকর ঘরামী
সমবায় দফতর, বন দফতর এবং পরিবেশ দফতর।
শ্রী অমিয় কিস্কু
খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন দফতর এবং কৃষি দফতর।
শ্রীমতী কলিতা মাজি
আবাসন দফতর।
শ্রীমতী গর্গী দাস ঘোষ
বিদ্যুৎ দফতর এবং অপ্রচলিত ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎস দফতর।
অ্যাডভোকেট বিরাজ বিশ্বাস
আইন দফতর, বিচার (জুডিশিয়াল) দফতর এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর।
শ্রী দীপঙ্কর জানা
ভূমি ও ভূমি সংস্কার এবং উদ্বাস্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন দফতর এবং সুন্দরবন বিষয়ক দফতর।
শ্রীমতী সুমনা সরকার
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর।
নতুন এই মন্ত্রিসভার বিন্যাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলমহল—সব এলাকাকেই সমান গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, কিছু গুরুত্বপূর্ণ দফতরের ভার একাধিক প্রতিমন্ত্রীর হাতেও ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
এই নতুন টিম নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষনেতৃত্ব কি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন? নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নের পথে এই নতুন মন্ত্রিসভা কতটা কার্যকরী ভূমিকা নেবে, সেটাই এখন দেখার।
