সৌরভ দত্ত, ২৭জুন : কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বিরাট বদল। দিল্লির রাজনীতিতে এক মস্ত বড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এনডিএ সরকারের মন্ত্রিসভায় অপ্রত্যাশিত রদবদল বা ‘ক্যাবিনেট রেশাফলিং’-এর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এই সম্ভাব্য রদবদলের সবচেয়ে বড় চমক হতে চলেছে দেশের অর্থ মন্ত্রক। সূত্রের খবর, বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে তাঁর পদ থেকে সরানো হতে পারে এবং তাঁর জায়গায় ভারতের নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করতে পারেন ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক -এর প্রাক্তন গভর্নর তথা প্রাক্তন আইএএস অফিসার শক্তিকান্ত দাস। এছাড়া রাজনৈতিক অলিন্দে জোরালো গুঞ্জন, আগামী সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই সংস্কার বা ‘ক্যাবিনেট ওভারহল’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। এই সম্ভাব্য রদবদলের আরেক বড় চমক হিসেবে দেশের শিক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থ মন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানো নির্মলা সীতারামনকে এবার নতুন সাংগঠনিক বা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে স্থানান্তরিত করা হতে পারে। রাজনৈতিক অলিন্দে গুঞ্জন, তাঁকে উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভার শূন্য আসনে প্রার্থী করে সংসদে পাঠানো হতে পারে। এই রদবদলের সিদ্ধান্তের পেছনে আসন্ন আর্থিক বছরের জন্য নতুন অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিশেষ সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্য রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে শক্তিকান্ত দাসের মেয়াদ এবং তাঁর আর্থিক দূরদর্শিতা দেশের অর্থনীতিকে একাধিক সংকটের হাত থেকে রক্ষা করেছে। আমলাতান্ত্রিক এবং আর্থিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
একজন প্রাক্তন আইএএস অফিসার হিসেবে শক্তিকান্ত দাসের রাজকোষ নীতি ও ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার ওপর গভীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আস্থাভাজন: শুধু রিজার্ভ ব্যাঙ্কই নয়, এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব হিসেবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ এবং অত্যন্ত বিশ্বস্ত অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর নাম সর্বজনবিদিত।
বিশ্ব বাজারের মন্দা ও মুদ্রাস্ফীতির বাজারে ভারতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শক্তিকান্ত দাসের নীতি ও সিদ্ধান্ত অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় একজন পেশাদার আর্থিক বিশেষজ্ঞকে নিয়ে এসে অর্থমন্ত্রীর ব্যাটন তুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
দেশের শিক্ষানীতি ও সাম্প্রতিক শিক্ষা ক্ষেত্রের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মাঝে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকেও বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে নতুন কোনো দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রকে এই ব্যাপক ওলটপালটের ইঙ্গিত থাকলেও, মোদী মন্ত্রিসভার বাকি দুটি স্তম্ভে কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। বহাল থাকছেন অমিত শাহ ও নিতিন গড়কড়ি।
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক কৌশলের মূল কাণ্ডারি হিসেবে অমিত শাহ নিজের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্বেই বহাল থাকছেন।
সারা দেশে পরিকাঠামো উন্নয়নের জোয়ার আনা নিতিন গড়কড়ি তাঁর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রকের দায়িত্বেই থাকছেন। তাঁর কাজের সাফল্যের কারণেই এই মন্ত্রকে কোনো রদবদল করা হচ্ছে না।
বাজেট পেশ এবং আগামী আর্থিক পরিকল্পনাগুলির আগে মোদী সরকারের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে দেশের অর্থনৈতিক রাজনীতির এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। শক্তিকান্ত দাসের মতো একজন অভিজ্ঞ আমলা ও ব্যাংক প্রধানকে সরাসরি ক্যাবিনেটে নিয়ে এসে অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হলে তা বিনিয়োগকারী এবং বাজারকে অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খুব শীঘ্রই এই রদবদলের আনুষ্ঠানিক তালিকা রাষ্ট্রপতি ভবনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হতে পারে।

