সৌরভ দত্ত, ৮জুন:
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের ৬ কোটিরও বেশি মানুষ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন৷ রাজ্যের ১ কোটির বেশি মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে বাংলার বাইরে কাজ করেন। তাঁরা বাংলার বাইরে থেকেও এই পরিষেবার সুবিধা পাবেন৷
সরকারি ভাবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ৷ সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে চুক্তি সইয়ের মাধ্যমেই কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্পের আওতায় এল বাংলা৷ অদূর ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য সাথীর জায়গায় এ রাজ্যের বাসিন্দাদের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে আগেই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷
আয়ুষ্মান ভারতকে উপেক্ষা করার জন্য তৃণমূলকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর৷
২০১৮ সাল থেকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সূচনা করে কেন্দ্রীয় সরকার৷ কিন্তু এতদিন এই প্রকল্পের আওতায় ছিল না পশ্চিমবঙ্গ৷ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকে উপেক্ষা করার জন্য এ দিনও পূর্বতন তৃণমূল সরকারের মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘যারা মানুষকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছিলেন, তাঁদেরকেই মানুষ ছুড়ে ফেলে দিয়েছে৷’
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এতদিন অভিযোগ করা হত, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা রয়েছে৷ এ দিন সেই অভিযোগ খণ্ডন করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে ৪৪ কোটি কার্ড বিতরণ হয়েছে৷ ১৬ হাজারের বেশি হাসপাতাল যুক্ত হয়েছে৷ আয়ুষ্মান কার্ডে নাকি সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায় না৷ পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে আমি বলছি, এখনও পর্যন্ত আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে ১২.১৭ কোটি মানুষকে হাসপাতালের চিকিৎসা খরচ বাবদ ১.৮২ লক্ষ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে৷ পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চিত হয়েছে শুধু রাজনীতির কারণে৷ ৪৯ শতাংশ কার্ড মহিলাদের জন্য অনুমোদিত হয়েছিল৷ হাসপাতালে চিকিৎসা করেো যাঁরা উপকৃত হয়েছেন তাঁদের মধ্যেও ৪৯ শতাংশ মহিলা৷ ৮ বছর ধরে বাংলার মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন৷’
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ১১০০ হাসপাতাল আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে নথিভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করেছে৷ দ্রুত এই নথিভুক্তির প্রক্রিয়া মিটিয়ে ফেলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে আবেদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷
এতদিন আয়ুষ্মান ভারতকে ব্রাত্য করে রাখার জন্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডাও৷ তিনি বলেন, ‘আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুরোধ করে বলেছিলাম— মানুষের জন্য এটা করে দিন। উনি বলে গিয়েছেন হবে না, হবে না, হবে না। আমি বলেছিলাম হবে, হবে হবে। হয়েছে তো! উনি দিল্লিতে আছেন। সন্ধ্যায় টিভিতে দেখে নেবেন যাঁরা হবে না বলেছিল তাঁদের কী অবস্থা হয়েছে, আর যাঁরা হবে বলেছিলেন তাঁরা কীভাবে দাঁড়িয়ে আছেন৷’

