Friday, August 7

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা –

আমরা বিভিন্ন গল্প , উপন্যাস, কাব্য গ্রন্থের মাধ্যমে বিভিন্ন কাহিনী আমরা পড়ে এসেছি যেখানে দেখেছি কোন রাজা বা রাজপুত্রের নিমিষেই সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়ার গল্প। আজকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কোন অংশেই কম নয় তার কারণ যে রাজনৈতিক নেতা কয়েকদিন আগেই নিজের রাজত্ব দেখিয়ে অবহেলার ছলে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল সাধারণ মানুষের দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণা , আজ তার বা তাদের রাজত্ব কয়েক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেছে। ফলতার জাহাঙ্গীর থেকে শুরু করে কলকাতার যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আজ সব হারিয়ে সাধারণের দলে। কিন্তু কেন এই দশা বা দিন তাদের দেখতে হলো?

তার জন্য আত্ম সমালোচনার প্রয়োজন কিন্তু সেটা না করে বর্তমান বিরোধীদল বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে যে হবে সমাজের মানুষকে বিভ্রান্ত করছে সেটা মোটেও ইতিবাচক নয়। তৃণমূল কংগ্রেস দলটি দীর্ঘদিন ধরে একটি কর্পোরেট দল হিসেবে পরিণত হয়েছিল যেখানে রাজনীতির সাথে যুক্ত নয় এমন কিছু ভাড়া করা প্রতিনিধিদের নিয়ে তৈরি হয়েছিল একটি টিম। যার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের তৃণমূল কংগ্রেস শেষের শেষ ধাপে পৌঁছেছে। দলের উচ্চ স্তরের নেতাদের সাথে নিম্নস্তরের নেতাদের যোগাযোগ কখনো সঠিকভাবে ছিল না পুরোটাই হয়ে উঠেছিল আর্থিক জায়গা। সামান্য শিক্ষার জায়গা না নিয়ে বহু গজিয়ে ওঠা সমাজ বিরোধীরা হয়ে উঠেছিল তৃণমূলের ঝান্ডা ধরার অন্যতম কারিগর। তারা ঝান্ডা ধরে নি তার সাথে সাধারণ মানুষের উপর অকথ্য অত্যাচারের মাধ্যমে তারা শোষণের রাজনীতি চালিয়েছে। সামান্য হকার থেকে রিক্সাওয়ালা কেউই এই শিকারের বাইরে ছিল না। তৃণমূলের সামান্য অঞ্চল সভাপতি পদ বিক্রি হয়েছে কয়েক লক্ষ টাকায়। চাকরির কথা না হয় বাদই দেওয়া হলো।

যুব সম্প্রদায়ের মনে এক বিতৃষ্ণার সৃষ্টিকারী এই রাজনৈতিক দলের জন্য সামান্য সহানুভূতি এই জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে নেই। শিক্ষিত বেকাররা বছরের পর বছর ধরে বেকার থাকতে থাকতে তাদের পারিবারিক এবং সামাজিক উভয় ক্ষেত্রে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছিল তারই ফলস্বরূপ আজ যুবরাজের এই দশা।

আর জি করের অভয়াকাণ্ড এর জেরে সরকারের যে পদক্ষেপ গুলি নেওয়ার সমূহ প্রয়োজন ছিল কিন্তু ব্যক্তিগত স্বার্থ দেখতে গিয়ে সরকার অপরাধীদের আজও পর্যন্ত শাস্তি দিতে পারিনি। যার ফলে মহিলা সমাজও কোন অংশে ছেড়ে কথা বলেনি। এছাড়াও নারী নিরাপত্তা এবং নারী স্বাধীনতায় বহু ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সরকারের অবহেলা দেখা গেছে।

নিম্নস্তরের নেতা-নেত্রীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক বৈঠকে অকথ্যভাবে অপমান তাদের ব্যক্তিগত আত্মসম্মানে আঘাত সৃষ্টি করেছে যার ফল এখন তৃণমূল কংগ্রেস হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। সৎ নিষ্ঠাবান কর্মী যারা বামপন্থীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে তৃণমূলের ক্ষমতায় এনেছিল তারা বর্তমান দিনে ব্রাত্য হয়ে গেছিল যা সমাজকে অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছিল এবং তাদের রাজনৈতিক বুদ্ধি এবং রাজনৈতিক দক্ষতা তৃণমূল কংগ্রেস কাজে লাগাতে পারেনি।

ফলতার জাহাঙ্গীরের মত সমাজ বিরোধী এবং স্বার্থসিদ্ধিবান লোককে যখন একটি বিধানসভার দায়িত্ব দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে শিক্ষিত রুচিসম্পন্ন মানুষ তৃণমূলকে ব্যাকা চোখে দেখতে শুরু করে। যুবসমাজ বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আদর্শকে খুঁজে বেড়াই এবং তারা চাই পৃথিবীকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সেক্ষেত্রে যখন তাদের নেতা হিসাবে এইরকম অসামাজিক মানুষকে নিয়ে আসা হয় বিষয়টি অন্যরকম হয়ে যায়। এবং সামাজিক দিক দিয়ে তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা দিনে দিনে নিম্নমুখী হয়ে ওঠে।

তৃণমূল একটা বিচক্ষণতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের স্বাবলম্বী করার জন্য বিভিন্ন ভাতার ব্যবস্থা করেছিল ঠিকই কিন্তু সেই ভাতাকে কাজে লাগিয়ে বেকার যুবক-যুবতীরা যে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে বা তার সুযোগ তৈরি হবে তার ব্যবস্থা কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস করেনি। বর্তমান সমাজের যুবক-যুবতীরা শুধুমাত্র ভাতায় বিশ্বাসী নয় তারা সমাজকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর ।তারা চাই শিল্প, কারখানা , রাস্তাঘাট, রেল, এয়ারপোর্ট, বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হোক কিন্তু সেদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনদিন নজর ছিল না।
এক কথায় হাজার অসন্তোষ, কষ্ট-যন্ত্রণা, বহু মানুষের চোখের জল এবং অবাধ শোষণ তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোটে হেরে যাওয়ার এক মাসের মধ্যে শুধুমাত্র খাতায় কলমে একটি দলে পরিণত করেছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version